১.
তখন স্কুলে পড়ি, ক্লাস ৯ কি ১০ এ। থাকতাম উপশহর সীতাকুণ্ডে। একদিন একটা জিনিস কিনতে হবে, কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না সেটি কিসের দোকানে পাওয়া যায়। ইলেকট্রনিকস নাকি হার্ডওয়ার নাকি অন্য কোন দোকানে। সেই সময়ই মাথায় আসলো আরো এই সমস্যায় ত আরো অনেকেই নিশ্চয়ই ভুগে।
তখন মাথায় আসলো একটা কল সেন্টার করবো, যেটাতে মানুষ কোন জিনিস কোন দোকানে পাওয়া যায় সেটি খুঁজবে। আমাদের বিল্ডিং এর ছাদে ২ রুমের একটা বাসা ছিল, সেটা ভাড়া নিয়েই কল সেন্টার চালাবো। কল সেন্টারের ইনকামটা হবে যে দোকানগুলোকে প্রমোট করবো তাদের থেকে একটা এমাউন্ট নেওয়ার মাধ্যমে।
২.
করোনাকালিন সময়ে লকডাউনের সময় মানুষের মধ্যে বাগান করার একটা ট্রেন্ড আসছিল। প্রচুর মানুষ সেই সময় বাগান করা নিয়ে ভাবছিল। কিন্তু বাগান করার মেইন জিনিস যে মাটি সেটি শহরে পাবে কই? তাই তখন মাথায় আসলো বাগান করার উপযোগী মাটি সেল করবো। যদিও পরে দেখি নার্সারিগুলোই মাটি সেল করে তাই আর আগানো হল না..
৩.
বর্ষাকালে সবসময় আম্মুকে দেখি বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে৷ তারপর সেই পানি দিয়েই সারাবছরের রান্নাবান্নার কাজ চালায়। এটা সত্য যে ওয়াসার লাইনের পানির চাইতে বৃষ্টির পানি দিয়ে রান্না করলে, চা বানালে সেটার টেস্টটা একটু ভাল হয়।
কিন্তু শহরে ত বৃষ্টি পানি সংরক্ষণ করা সবার জন্য সহজ না। তাই একদিন মাথায় আসলো বাজারে যে ২০ লিটারের পানির জার পাওয়া যায় সেগুলো করে বৃষ্টির পানি সেল করবো৷ বর্ষাকালে সংরক্ষণ করে রেখে তারপর সারাবছর সেল করবো।
যদিও পরবর্তীতে নানা ক্যালকুলেশনের পর এটাতে প্রফিটেবল মনে না হওয়ার আর আগানো হয় নি।
৪.
৩ বছর আগে যখন জবে ঢুকলাম, সপ্তাহে ৬ দিন সারাদিন অফিস করতাম তখন প্রবলেম ফেস করলাম কাপড় আইরন করা নিয়ে। দেখা যেত কাপড় ধুয়ে রাখার পরেও লন্ড্রিতে নিয়ে যাওয়া হত না নানা কারণে। খেয়াল করে দেখলাম এই রকম সমস্যায় আরো অনেকেই আছেন।
তখন মাথায় আসলো এমন একটা সার্ভিস যদি চালু করা যায় যেটা আপনার বাসা বা অফিস থেকেই কাপড় কালেক্ট করবে এবং সেটি আইরন করিয়ে আপনার বাসা বা অফিসেই আপনাকে ডেলিভারি করে দিয়ে আসবে। আপনাকে কোন কষ্টই করতে হবে না।
এটা নিয়ে আমি বেশ সিরিয়াস ছিলাম সেই সময়, কয়েকজনের সাথে আলোচনাও করেছিলাম এটা নিয়ে। পরে চিন্তাভাবনা করে দেখলাম এটাতে বেশ অনেকগুলো প্রবলেম আছে যেটা সলভ করা বেশ ডিফিকাল্ট এবং মানুষও এখনই এটার জন্য খুব বেশি এমাউন্ট পে করবে না৷ এছাড়া বড় বড় কিছু লন্ড্রি এই সার্ভিস দিচ্ছে তাই আমি এখানে খুব একটা সুবিধা করতে পারবো না৷ তাই এটা নিয়েও আর আগানো হয় নি, হয়ত ভবিষ্যতে করা হবে
৫.
আমি যখন মিষ্টির বিজনেস করি তখন একটা বিষয় খেয়াল করি যে প্রচুর মানুষ মিষ্টি খেতে চায় কিন্তু হয় ব্যাচেলর থাকে বা বাসায় মিষ্টি খাওয়ার মত তেমন কেউ নাই যার কারণে তারা ১ কেজি বা হাফকেজি মিষ্টিও কিনতে পারে না৷ আবার অনেকসময় দেখা যায় ইনস্ট্যান্ড মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু আমার প্রি অর্ডারের সিস্টেম থাকায় তারা কিনছে না।
তখন মাথায় আসলো ইন্ডিয়ার সুইগির সিঙ্গেল মিষ্টি ডেলিভারি করার আইডিয়াটা কাজে লাগাবো কিনা। এটাতে শহরে প্রতিটা জোনে একেকটা হাব করে সেখানে মিষ্টি স্টকে রাখবো, ডেলিভারি ম্যান স্ট্যান্ডবাই থাকবে। কাস্টমার যখনই অর্ডার করবে এক পিস মিষ্টি হলেও সাথে সাথে ডেলিভারি হয়ে যাবে।
কিন্তু পরে ক্যালকুলেশন করে দেখি এটাতে যে পরিমান অপারেশনাল কস্টিং আছে সেটাতে আমি পুষাতে পারবো না, প্রফিট করাটা খুবই টাফ হবে। তাই এটা আর করা হয় নি।
পরিবর্তে অবশ্য কম্বো বক্সের অন্য আইডিয়া ইমপ্লিমেন্ট করি এবং সেটা বেশ ভালই রেসপন্স দেয়।
৬.
অনার্সে পড়া কালিন আমাদের ক্যাম্পাসে এক মামা ঝালমুড়ি সেল করতেন। সকালে ৯টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যস্ত ক্যাম্পাসে এবং বাসায় যেয়ে রেস্ট নিয়ে বিকাল ৪টা থেকে ৭টা পর্যন্ত একটা হাসপাতালের সামনে বিক্রি করতেন। ওনার ডেইলি সেলস ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা যেখানে ওনার প্রফিট থাকতো মোটামুটি ১২০০ টাকার মত।
ওনাকে দেখে ইচ্ছে হল আমিও বিকাল টাইমে ঝালমুড়ি সেল করি এবং এটা নিয়ে তখন ভালই সিরিয়াস ছিলাম. ওনার থেকে চানাচুর কিনে বাসায় বেশ কয়েকদিন বিভিন্ন আইটেম মিক্স করে করে এক্সপেরিমেন্টও করি কিভাবে ভাল ঝালমুড়ি বানানো যায়। বিল্ডিং এর সিকিউরিটিকে বলি একটা ছেলে খুঁজে দিতে যে আমার সাথে কাজ করবে 🫢
যদিও পরিবর্তীতে মিষ্টি নিয়ে কাজ শুরু করায় এটা নিয়ে আর আগানো হয় নি
৭.
জীবনের বিভিন্ন সময় এমন অদ্ভুত অদ্ভুত অনেক আইডিয়া মাথায় আসছিল যেগুলোর বেশিরভাগই পরবর্তীতে আর কাজে লাগানো হয় নি।
তবে যে সমস্যার মূল জায়গাটা খুঁজে বের করতে এবং সেটার একটা সল্যুশন বের করতে ভাল লাগে। বলা যায় এটা আমার একটা প্যাশন। কে জানে, হয়ত একদিন দেখবেন এমনই কোন এক পাগলাটে আইডিয়া নিয়ে সত্যি সত্যি সিরিয়াসলি কাজে নেমে পড়েছি

