ক্যারিয়ারে বা সিভিতে যে ভুল করা যাবে না

কর্পোরেট বা জব সেক্টরে ক্যারিয়ার ধাপগুলো হচ্ছে এমন

জুনিয়র এক্টিকিউটিভ

– এক্সিকিউটিভ

– সিনিয়র এক্সিকিউটিভ

– এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার

– ম্যানেজার

– সিনিয়র ম্যানেজার

– জিএম এভাবেই

ত এখন ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে ধাপগুলো তার প্রতিটির সাথে কিন্তু কিছু হিডেন মিনিং আছে, যেমন এক্সপেরিয়েন্স, জব রেসপনসেবলিটি, স্যালারি ইত্যাদি।

যেমন একটু যদি ব্যাখ্যা করি যখন আপনি ফ্রেশার, তেমন অভিজ্ঞতা নেই বা সর্বোচ্চ ১-৩ বছরের অভিজ্ঞতা আছে তখন আপনি থাকবেন জুনিয়র এক্সিকিউটিভ বা এক্সিকিউটিভ পজিশনে, এই পজিশনগুলোতে আপনাকে খুব বেশি দায়িত্ব নিতে হবে না। আপনার এই ডেজিগনেশনটাই মানুষকে বুঝিয়ে দিবে আপনার এক্সপেরিয়েন্স কেমন, স্যালারি কেমন ইত্যাদি।

এরপর ধরেন যদি আপনার নামের সাথে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ লেখা থাকে তার মানে আপনার অলরেডি ৩+ বছর এক্সপেরিয়েন্স আছে, আপনি ছোটখাট টিম লিড করা, ডিসিশন মেক করার ক্যাপাবিলিটি রাখেন, আপনাকে যে কোন কিছুর দায়িত্ব নিতে হবে। এবং আপনার একটা স্যালারি স্ট্যান্ডার্ট আছে৷ কোন কোম্পানি আপনার সিভি হাতে পেলে তারা সেভাবেই আপনাকে নিয়ে চিন্তা করবে

এরপর ধরেন যদি আপনি যদি এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বা ম্যানেজার হন তারমানে আপনার ৭-১০+ বছরের অভিজ্ঞতা হয়েছে। আপনি ভাল একটা টিম লিড করার ক্যাপাবিলিটিও রাখেন, নতুন আইডিয়া বা নতুন বিজনেস সেক্টর এক্সপ্লোর করার কাজও আপনি করতে পারবেন। এবং আপনার স্যালারি স্ট্যান্ডার্টও বেশ ভাল, কোম্পানি আপনাকে হায়ার করতে চাইলে অবশ্যই সেটাকে বিবেচনায় রাখতে হবে

বাকি পজিশনগুলোও মোটামুটি এভাবেই চলে।

এখন এতক্ষণ ধরে এই বকবক কেন করলাম? বিষয়টা হচ্ছে বড় পজিশনের দিকে আমাদের সবারই একটা লোভ আছে, যতই আমি ফ্রেশার হইনা কেন নামের পাশে সিনিয়র পজিশন লিখতে আমাদের সবারই গায়ে একটা ভাব আসে।

কিন্তু চাকরির আবেদনে এই জিনিসটা কিন্তু বেশ সেন্সেটিভ, এটা কিন্তু আপনার রেপুটেশনের সাথে জড়িত, অনেকক্ষেত্রে ক্যারিয়ারে বড় ক্ষতি করে।

ধরেন আপনি একটা ফ্রেশার, কিন্তু আপনার ডেজিগনেশন ছোট কোন কোম্পানির ম্যানেজার৷ এখন বড় কোন কোম্পানির একটা এক্সিকিউটিভ পজিশনে দেখলেন আপনার বর্তমান জবের চাইতে অনেকবেশি ফ্যাসিলিটিজ দিচ্ছে তাই আপনি আবেদন করে বসলেন

এখন কোম্পানি যখন সিভি বাছাই করতে বসবে এবং দেখবে আপনি একটা কোম্পানির ম্যানেজার হয়েও এক্সিকিউটিভ পজিশনে এপ্লাই করে বসছেন তারা কিন্তু দুইটা কাজ করতে পারে।

১. তারা যেহেতু এক্সিকিউটিভ পজিশনে লোক নিবে তাই আপনাকে বাদ দিয়ে দিতে পারে, অথবা

২. আপনাকে লিস্টে রাখবে কিন্তু আপনার সম্পর্কে ধারনাটা খুব একটা পজেটিভ রাখবে না, এটা ভাবতে পারে যে আপনি হয়ত খুব বেশি কাজ জানেন না

এখানে একটা বিষয় কিন্তু আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, সিভিতে আপনি কোম্পানির নাম উল্লেখ করতে পারেন কিন্তু অন্যরা কিন্তু জানে না সেই কোম্পানিটা বড় নাকি ছোট, ভাল না খারাপ। তারা কিন্তু কোয়ালিফিকেশন ভ্যারিফাই করবে আপনার ডেজিগনেশন দেখে

লেখা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে, এত বেশি জ্ঞান না আর না ঝাড়ি, একটা সাজেশন দিয়ে শেষ করে দি।

১. ক্যারিয়ারের শুরুতে চেষ্টা করবেন যতবেশি পারেন কাজ করতে, কাজ শিখতে, সিনিয়র ডেজিগনেশনের লোভ সামলে রেখে জুনিয়র ডেজিগনেশনে থাকতে।

২. কোথায় এপ্লাই করার আগে যদি দেখেন পজিশনটা আপনার বর্তমান পজিশনের চাইতেও জুনিয়র কিন্তু ফ্যাসিলিটিজ বেশি তাহলে সিভি বানানোর সময় আপনার বর্তমান ডেজিগনেশনটা চেঞ্জ করে যেমন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থাকলে সেটাকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে উল্লেখ করে তারপর এপ্লাই করতে। এটাতে আপনার ইন্টারভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা একটু বাড

#ক্যারিয়ার_টিপস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *