চাকরি না করেও যেভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়..

অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি হয় না অথবা চাকরিতে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেয় বলে ফ্রেশাররা চাকরি পাবে কই বলে অনেকেই ক্ষোভ ঝাড়েন, হতাশ হন। অথচ চাকরির ক্ষেত্রে কাজে লাগে এমন অনেক অভিজ্ঞতা আছে সেগুলো কোন চাকরি না করে, কোন টাকা খরচ না করেও পাওয়া যায়।

আবার অনেকে বলে মামা চাচা ছাড়া নাকি চাকরি হয় না। অথচ এই মামা চাচা বলতে যেগুলো দরকার সেটা কিন্তু আপনি নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন৷ সহজ করে বললে বর্তমানে এই মামা চাচা হচ্ছে আসলে নেটওয়ার্ক যেটা আপনাকে রেফারেন্স দিবে। বর্তমানে মার্কেটে প্রচুর জব পোস্ট আছে যেগুলোর রিক্রুটমেন্টটা ইন্টারনালি হয়, স্পেশালি সিনিয়র পজিশনগুলোতে।

এই পজিশনগুলোতে যারা ইন্টারভিউ কল পায় তারা কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রেফারেন্সেই যায় এবং এই রেফারেন্সগুলোও আসে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। তাই আপনি কেমন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারছেন, সেই নেটওয়ার্কে নিজেকে কতটুতু প্রকাশ করতে, নিজেকে প্রমান করতে পারছেন সেটিও কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আসেন কিভাবে এই নেটওয়ার্ক এবং চাকরি না করেও অভিজ্ঞতা নেওয়ার যে কথাটা বললাম সেটি কিভাবে তৈরি করবেন। ব্যাপারটা খুব সহজ, এই সবগুলোই হয় ভলেন্টিয়ারিং এর মাধ্যমে, সোজা বাংলায় ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মাধ্যমে। একেকটি ইভেন্ট একেকটি নেটওয়ার্কিং হাব, একেকটি লার্নিং জোন যদি আপনি ঠিকঠাকমত কাজে লাগাতে পারেন।

এই ইভেন্টগুলোই আপনাকে ভাল একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিবে, প্রচুর স্কিলফুল মানুষের সাথে-ক্যারিয়ের ভাল পজিশনে থাকা মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। আপনাকে টিমওয়ার্ক, ডেটলাইন, টার্গেট এচিভ করা শিখাবে, অর্গানাইজিং খুঁটিনাটি শেখাবে৷ ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট শেখাবে যেগুলো আপনার সিভিতে, ইন্টারভিউতে ফোকাস করতে পারবেন। একই সাথে তৈরি হওয়া নেটওয়ার্কের মানুষরা আপনার স্কিল, সামর্থ সম্পর্কে জানবে এবং যখনই তাদের কাছে আপনার সাথে ম্যাচ করে এমন কোন রিক্রুটমেন্টের রিকুয়ারমেন্ট আসবে তখনই তারা আপনাকে রেফার করে দিবে।

আমার আশেপাশে প্রচুর মানুষ আছে যারা ঘরের খেয়ে বনের মোঘ তাড়ানো মানে ভলেন্টিয়ার করতো, তারপর নেটওয়ার্ক, স্কিল, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ক্যারিয়ারে বেশ ভাল অবস্থানেই আছে। আমার নিজেরও কর্মজীবন শুরু হয়েছিল এই নেটওয়ার্কিং, ভলেন্টিয়ারিং করতে করতে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই। আমার বর্তমানের যে নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা তার ৮০% ই এসেছে ফ্রি ফ্রি বিভিন্ন ইভেন্টে ভলেন্টিয়ারিং করতে করতে।

তাই সারাক্ষণ একাডেমি পড়ালেখায় মগ্ন না থেকে ভলেন্টিয়ারিংও করুন৷ এটা আপনাকে কর্মক্ষেত্রে প্রচ্চুর সাহায্য করবে। যে ইভেন্টই পান না কেন, কি পাবেন না পাবেন সেই চিন্তা না করে সেগুলোতে কাজ করতে থাকেন। সব ধরনের ইভেন্টেই কাজ করতে থাকেন। বেশি না জাস্ট ৫টা ইভেন্টে কাজ করেন ঠিকমত, তারপর নিজেই বুঝতে পারবেন নিজের চেঞ্জ৷ তারপর আইসা আমারে একটা থ্যাংকস দিতে চাইলে দিয়েন, না দিলে নাই..

বাচ্চাকাচ্চার মা-বাবা যারা আছেন তাদেরও বলবো, আপনার বাচ্চাকে যদি ফার্মের মুরগী না বানিয়ে দেশি মুরগী বানাতে চান তাহলে তাদেরকে এই কাজে উৎসাহ দিন, সাপোর্ট দিন। দেখবেন একসময় তারা আপনাকে এটি বহুগুণে রিটার্ন করবে, শুধু মোরালিটি যেন ঠিক থাকে সেদিকে একটু নজর রাখবেন….

©Kazi Irfan

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *