ডোমেইন, হোস্টিং,ওয়েব ডিজাইন কি?

অনেকের সাথে কথা বলতে যেয়ে যেটি বুঝলাম ডোমেইন, হোস্টিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন নিয়ে অনেকের বেসিক ধারনাটি ঠিক পরিষ্কার নেই। তাই ভাবলাম আপনাদের জন্যই সহজভাবে ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে দি

ডোমেইন কি?

ধরুন আপনি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে গেলেন কাউকে খুঁজতে। এখন ভার্সিটি তো বিশাল এরিয়া, অনেকগুলো ডিপার্টমেন্ট, প্রচুর স্টাফ,টিচার,স্টুডেন্ট সেখানে। তাহলে আপনি যাকে খুঁজছেন তাকে কিভাবে খুঁজবেন, কি নামে খুঁজবেন?? নিশ্চয়ই কোন একটি নামেই খুঁজবেন তাই না??

ঠিক তেমনি অনলাইনটাও ঐ ভার্সিটির চাইতেও বিশাল বড় এরিয়া। এখানে আপনার কাস্টমাররা আপনাকে কিভাবে খুঁজে পাবে?? কি নামে আপনাকে পাবে সেটি নির্ধারন করায় হল ডোমেইন। ডোমেইনটা হল একটা নাম যেটা দিয়ে ইন্টারনেটের মহাসমুদ্রে মানুষ আপনাকে খুঁজে পাবে। যেমন ইন্টারনেটের জগতে আপনি http://www.planb.bz দিয়ে খোঁজ করলেই PlanB Solution কে পেয়ে যাবেন।

হোস্টিং কি?

ধরুন চট্টগ্রামের কোথাও আপনি নিজের একটা বাড়ি বানাবেন৷ তাহলে সবার আগে আপনাকে কি করতে হবে?? নিশ্চয় জমি কিনতে হবে, তাই না?? এখন কতটুকু জমি কিনবেন সেটি আপনার উপর, আপনি চাইলে এক একরও কিনতে পারেন চাইলে ১০০ একরও কিনতে পারেন। তারপর সেই জমির উপর আপনি বাড়ি বানাবেন। এটাই তো?

ঠিক তেমনি অনলাইনে আপনার বাড়ি বা ওয়েবসাইট বানাতে আপনাকে অনলাইনের জমি মানে স্পেস কিনতে হবে। তবে এখানে জমিটা সাধারণ ভাড়া দেওয়া হয় এক বছরের হিসেবে। আপনি চাইলে এক বছরের জন্যও নিতে পারেন, চাইলে ১০ বছরের জন্যও একসাথে নিয়ে নিতে পারেন। আপনি কতটুকু স্পেস ভাড়া নিবেন সেটি আপনার উপর নির্ভর, আপনি কেমন বাড়ি বা ওয়েবসাইট বানাবেন সেটির উপর নির্ভর করে৷ চাইলে ১ জিবি হোস্টিংও নিতে পারেন, আবার চাইলে ১০০ জিবিও নিতে পারেন।

ওয়েব ডিজাইন কি?

ওয়েবসাইটটা হচ্ছে অনলাইনে আপনার বাড়ি। ইন্টারনেটের মহা সমুদ্রে হোস্টিং বা যে স্পেসটা আপনি ভাড়া নিলেন সেখানে এবার আপনি বাড়ি বানাবেন বা ওয়েবসাইট ডিজাইন করবেন। এখন আপনি কি ১০ তলা বাড়ি বানাবেন নাকি ১ তলা, সম্পূর্ণ নিজের জন্যই রাখবেন নাকি অন্যদের কাছেও আপনার বাড়ির কিছু অংশ ভাড়া দিবেন, কোন ডিজাইনে করবেন, ভাল ম্যাটেরিয়াল ইউজ করবেন নাকি দুর্বল ম্যাটেরিয়াল ইউজ করবেন সেটি কিন্তু আপনার সিদ্ধান্ত এবং আপনার বাজেটের সিদ্ধান্ত। বাজেট বেশি থাকলে বাড়ি যেমন মজবুত, সুন্দর হয়, তেমনি ওয়েবসাইটও স্মুথ, লুক্রেটিভ,স্ট্রং হয়।

বাড়ির ডিজাইন করার পর যেমন টুকটাক ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন করতে হয়,তেমনি ওয়েবসাইটেও কিছু ডেকোরেশন করতে হয়। বাড়ির গেইটে যেমন কলিং বেল বা ইন্টারকম থাকে সহজ যোগাযোগের জন্য, তেমনি ওয়েবসাইটেও চ্যাটবট থাকে সহজ যোগাযোগের জন্য। ওয়েব ডিজাইনের এরকম আরো অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে যেগুলো আসলে একটি বাড়ি নির্মানের সাথে সম্পর্যযুক্ত, যেহেতু ওয়েবসাইটিও অনলাইনে আপনার বাড়ি। বাকি বিষয় নিয়ে অন্য কোনদিন লিখবো।

সবসময় অন্যের ভাড়া বাসায় থাকলে যেমন নিজের পছন্দমত সবকিছু করা যায় না, বাড়ি ওয়ালার মাতাব্বরি পছন্দ না হলেও সহ্য করতে হয় যেমনটি আমরা ফেসবুকের ক্ষেত্রে দেখি। ফেসবুক পেইজটা হচ্ছে ফেসবুকের বাড়িতে আমাদের ভাড়া বাসা। আর ওয়েবসাইট হচ্ছে নিজের বাড়ি, যেখানে আপনার পছন্দমত,স্বাধীনভাবে আপনি সবকিছুই করতে পারবেন।

তাই আর কত ভাড়া বাসায় থাকবেন?? এবার তবে বানিয়ে নিন নিজের বাড়ি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *