ফেসবুকে এডে ভাল রেজাল্ট পাওয়ার জন্য যা জরুরি

আমরা কমবেশি সবাই ফেসবুকে পেইড মার্কেটিং বা এড দিয়ে থাকি, আর কিছু দিন পরেই রমজান আসছে। সেই সময়ও অনেকেই ফেসবুক এড রান করবেন । প্রায় সময় শুনি এড দিয়ে নাকি ভাল রেজাল্ট আসে নি। এড রেজাল্ট ভাল না আসার অনেকগুলোই কারণ আছে, কিন্তু আমরা সেগুলো সম্পর্কে ভালভাবে জানি না, ফলো করি না বলে আমরা ভাল রেজাল্টও পাই না। তাহলে চলুন ভূমিকা বড় না করে জেনে নেওয়া যাক কি সেই গোপন বিষয়গুলো…

✅ ক্যাচি হেডলাইন :- একটা এডের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হেডলাইনটা কিন্তু আমরা এখানেই ভুল করি। এডের সময় ক্যাপশনটা কিন্তু মাত্র ১ লাইন দেখায়। তারমানে আপনাকে এমন একটা ক্যাচি হেডলাইন দিতে হবে সেটাতে মানুষ থেকে যেয়ে বাকি লেখাটাও পড়ে। 

ফেসবুকের প্রতিটি পোস্টের জন্য আমরা ১ সেকেন্ডেরও কম সময় ব্যায় করি। এখন আপনি যদি প্রথম লাইনেই তাকে আটকাতে না পারেন তাহলে তিনি বাকি লেখাগুলোও পড়বে না। তাই এড কপি লেখার সময় ক্যাচি হেডলাইন দিন

✅ এড ক্রিয়েটিভ :- এডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর ক্রিয়েটিভ বা ছবিটা।  এড দেওয়ার আগে আপনার ক্রিয়েটিভটা যেন মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে তেমন করেই রেডি করুন, তাহলেই মানুষ আপনার এড দেখে স্টলিং করা বন্ধ করে আপনার কনটেন্টটি পড়বে এবং এনগেজড হবে। 

✅ বাজেট :- ফেসবুকের যাত্রাটা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট হিসেবে হলেও এখন কিন্তু সে অনেকটাই কমার্শিয়াল। তাকে আপনি যতবেশি টাকা দিবেন সে আপনাকে ততভাল রেজাল্ট দিবে। এজন্য এডের ক্ষেত্রে বাজেটিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ।  তাই কম বাজেটের এড না দিয়ে ভাল বাজেট নিয়ে সময় নিয়ে এড দিন। 

✅ সময় :- ফেসবুক এডের কিছু সিস্টেম আছে। তাই আপনি যত লম্বা সময়ের জন্য এডটা দিবেন ততই ভাল রেসপন্স পাবেন। ২-৩ দিনের জন্য এড দিয়ে সেটাতে ভাল রেসপন্স আশা করাটা একটু বেশিই হয়ে যায়। 

আরেকটি বিষয় হচ্ছে কাস্টমার বায়িং টাইম। সাধারণত মাসের ৫-১৫ তারিখের মধ্যে মানুষ স্যালারি পায় বলে এই সময়ে হাতে টাকা থাকে এবং এই সময়ে শপিং করে।  অপরদিকে ২৫ তারিখের সময়ে মানুষের হাত অনেকটাই খালি থাকে বলে এই সময়ে বেশিরভাগই একটু সেভিংস করে চলে, খুব বেশি জরুরি না হলে শপিং করে না। 

তাই আপনার প্রোডাক্ট কি সেই অনুসারে এনালাইসিস করে নির্দিষ্ট টাইমেই এড রান করুন যাতে ঐ সময়ে মানুষ শপিং করতে পারে। 

✅ পেইজ সেটআপ :- ধরুন আপনি উপরের সবকিছুই করলেন, কিন্তু আপনার পেইজটাতে কোন লোগো নেই, প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন নেই, এমন কিছু নেই যেটাতে বুঝা যায় আপনি ফেক কোন পেইজ না, অথেনটিক পেইজ। মানুষ সবসময় বিশ্বস্ত পেইজ থেকেই কিনতে পছন্দ করে। 

আপনার পেইজ দেখে যে যদি কনফিউশানেই থাকে, সে যদি আপনাকে বিশ্বাসই করতে না পারে তাহলে এডের সবকিছু যত পারফেক্টভাবেই করেন না কেন রেজাল্ট তেমন একটা পাবেন না। তাই এড দেওয়ার আগে আপনার পেইজটি যেন প্রফেশনালী সেটআপ করা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন

✅ ভিডিও :- বর্তমানে ফেসবুকে ছবির চাইতে ভিডিও এর রিচ সবথেকে বেশি হয়। তাই ছবির চাইতে ভিডিও করে এড রান করলে সেটার রেসপন্স একটু বেশি পাবেন। 

ভিডিওর ফ্রেম সাইজ আবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নির্দিষ্ট একটি সাইজ না হলে সেটি ফেসবুক,মেসেঞ্জার, ইনস্ট্রাগ্রাম,হোয়াটসঅ্যাপ সব জায়গায় সঠিকভাবে প্লেসমেন্ট হবে না।  তাই এডের জন্য যে ভিডিওটি করবেন সেটা যেন ১:১ ফ্রেমের হয় সেদিকে একটু নজর রাখবেন

মোটামুটি এগুলোই একটা এড থেকে ভাল রেজাল্ট বের করে নিয়ে আসার পূর্বশর্ত। তবে এগুলোতেই শেষ না, আরো খুঁটিনাটি বিষয় আছে সবগুলো যদি এই পোস্টেই লিখতে যায় তাহলে উপন্যাস হয়ে যাবে আর আপনারাও স্কিপ করে চলে যাবেন। তারচাইতে বরং আজকে এতটুকুতেই থাক, বাকি বিষয় নিয়ে নাহয় অন্যদিন কথা বলা যাবে.

তবে একটা বিষয় আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, ফেসবুকে এড দিলেই সেল বাড়বে না, এডের কাজ আপনার পণ্য সেল করে দেওয়া নয়। বরং আপনার প্রোডাক্টটি সম্পর্কে বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া। এরপর তাদেরকে কনভিন্স করে আপনি সেল ক্লোজ করতে পারছেন কিনা সেটি নির্ভর করছে আপনার পণ্য কেমন এবং আপনার সেলিং স্কিলের উপর। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *