কাস্টমারের মস্তিষ্ক দখল করা কেন জরুরি?

কাস্টমার টপ অব মাইন্ড কি?

ধরুন কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করলো নতুন মোবাইল কিনবে, কোন ব্র্যান্ডটি কিনবে? তখন সাথে সাথে কোন ব্র্যান্ডের কথাটা আপনার মাথায় আসবে?? অথবা ধরুন, আপনি বাইরে খেতে যাবেন, তখন সবার আগে কোন রেস্টুরেন্টের কথা আপনার মাথায় আসে?? অনলাইন থেকে কোন নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে গেলে কোন পেইজের কথা মাথায় আসে?? যেমন আপনার বগুড়ার দই, টাঙ্গাইলের চমচম খেতে ইচ্ছে হলে, কোথাও এসবের কথা শুনলেই যদি K.I. Foods এর নাম সাথে সাথে মাথায় আসে তখন ধরে নিতে হবে এটা আপনার টপ অব মাইন্ডে জায়গা করে নিয়েছে৷ এই যে নির্দিষ্ট একটা ব্র্যান্ড, শপের কথায় আপনার মাথায় আসছে এটাই টপ অব মাইন্ড। একটা ব্র্যান্ড, শপের সফলতা।

  • টপ অব মাইন্ড কেন জরুরি???

বিজনেসের ক্ষেত্রে টপ অব মাইন্ড খুবই জরুরি একটা বিষয়৷ ঐ যে প্রবাদে আছে না, ” চোখের আড়াল মানে মনের আড়াল “। প্রবাদের মতই আপনি যদি কাস্টমারের টপ অব মাইন্ডে জায়গা করে নিতে না পারেন তাহলে আপনারও সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকবে, আপনার সেল থাকবে পড়তির দিকে। এজন্যই যত বড় বড় ব্র্যান্ড, প্রতিষ্টান আছে সবাই প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এখানে জায়গা করে নিতে।

  • টপ অব মাইন্ডে আছি কিনা কিভাবে বুঝবো??

টপ অব মাইন্ডে আছেন কিনা সেটা বুঝাটা একটু কঠিন। অনেক সময় মনেহবে আপনি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে সেটা নয়। তবে কিছু কিছু বিষয়ে পুরা বুঝা না গেলেও আভাস পাওয়া যায় আপনি কতটা জায়গা করে নিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে মানুষ কেমন আলোচনা করছে, অনলাইনে কেউ আপনার পণ্যটি খোঁজ করলে সেখানে কয়জন আপনাকে ম্যানশন করছে সেটা থেকেও বুঝা যায় আপনি কতটা জায়গা নিতে পেরেছেন। মানুষ কিন্তু তখনই আপনাকে ম্যানশন করবে যখন আপনার কথা তার টপ অব মাইন্ডে থাকবে। তাই খেয়াল করে দেখুন আপনাকে কয়জন রেফার করছে

  • টপ অব মাইন্ডে জায়গা করে নিব কিভাবে??

টপ অব মাইন্ডে জায়গা করে নেওয়া সহজ, ছোট্ট কোন কাজ নয়। এটি অনেকটা টেস্ট ম্যাচের মত দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এটাতে প্রতিনিয়তই আপনাকে কাজ করে যেতে হবে। শুরুতে আপনার রেসপন্স আসবে কম, সেল থাকবে কম। তবুও আপনাকে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে। এই যে আমরা টিভিতে, পত্রিকায় অনেক বিজ্ঞাপন দেখি, সব বিজ্ঞাপন দেখেই কি আমরা একদৌড়ে পন্য কি কিনতে চলে যায়?? নিশ্চয় যায় না, তাহলে কি ঐ বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করাটা কি লস?? জ্বি না, লস নয়। কারণ সব বিজ্ঞাপন সরাসরি সেলের উদ্দেশ্য করা হয় না, বিজ্ঞাপনের কাজই হচ্ছে কাস্টমারের টপ অব মাইন্ডে জায়গা করে নেওয়া৷ যখন সেটা সম্ভব হবে, তখন সেল আপনা আপনিই বাড়বে। টপ অব মাইন্ডে জায়গা করে নেওয়ার কিছু ট্রিকস আছে। যেগুলো অনুসরণ করলে, নিয়মিত কাজগুলো করে গেলে কাজ অনেকটাই সহজ হয়৷ চলুন এবার সেগুলো নিয়ে একটু জেনে আসি

  • ১. চোখের সামনে থাকা :- শুরুতেই বলেছিলাম চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল। তাই প্রতিনিয়ত আপনার উপস্থিতি জানান দিয়ে যেতে হবে। অনলাইনে সেটি রেগুলার পোস্ট করে যাওয়া, সেসব আপনার টার্গেট কাস্টমারের কাছে পৌঁছানের ব্যাবস্থা করা। যারা আপনার পণ্য কিনবে তাদের কাছেই যদি না পৌঁছাতে পারেন তাহলে সেল হবে কিভাবে??
  • ২. যোগাযোগ রক্ষা করা :- যারা আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা তাদের সাথে আপনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ৷ মানুষ তার থেকেই কিনতে পছন্দ করে তাকে সে চিনে, ভরসা করে। নিজের দিকেই খেয়াল করে দেখুন, আপনিও কিন্তু নতুন কোন ব্র্যান্ড বা শপের তোলনায় পুরোনো, বিশ্বস্ত, পরিচিত কারো থেকেই কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
  • ৩. কাস্টমারকে আপনার সাথে কানেক্টেড করা:- মানুষের স্বভাব হচ্ছে আমরা মতামত দিতে বেশ পছন্দ করি। কোন বিষয় সম্পর্কে ভাল জানি না আর না জানি, আমরা মতামত দিয়ে ফেলি। অনেক ক্ষেত্রে এটি হয়তো খুব একটা ভাল নয়, কিন্তু সব কাজেরও তো ভাল খারাপ দুইটা দিক থাকে৷ এখানে যেমন আপনি এটাকেই কাজে লাগাতে পারেন৷ আপনার কাজ, পন্য সম্পর্কে মানুষের ফিডব্যাক নিন, এরপর কিছু কার্যক্রম দিয়ে তাদেরকে আপনার সাথে কানেক্টেড করে রাখুন। যত বেশি কানেক্টিভিটি, ততই বেশি সেল বাড়ার সম্ভাবনা
  • ৪. কাস্টমারের চাওয়া পাওয়া এনালাইসিস করা :- আমাদের সবার অনেক ধরণের চাওয়া পাওয়া থাকে। অনেকগুলো আমরা বলে ফেলি,অনেকগুলো অনেক সময় আমরা নিজেরাও বুঝি না। এখানে ব্র্যান্ড, শপের কাজ হচ্ছে কাস্টমারের ঐ চাহিদাটা আগে থেকেই বুঝে সেই অনুসারে প্রোডাক্ট নিয়ে আসা। কাস্টমার যখন বলবে ” আরে, আমি তো এটাই খুঁজছিলাম!!!” তখন আপনার সেলটাও ওভাবে বাড়বে।

আমি সবসময় একটা কথা বলি, ” সেলার হওয়ার আগে কাস্টমার হোন। কাস্টমারের মত ভাবতে শিখুন। তারপর কাজ করুন। “ তাই আপনি নিজেই ভেবে দেখুন কোন কোন ব্র্যান্ড, শপ আপনার টপ অব মাইন্ডে আছে। তার এনালাইসিস করতে বসুন, খতিয়ে দেখুন তাদের কোন কোন কাজের কারণে আপনার টপ অব মাইন্ডে তারা জায়গা করে নিতে পারলো৷ এবার সেসবকে আপনার বিজনেসেও কাজে লাগান, সময় নিন, নিয়মিত ফিডব্যাক নিন, প্রয়োজনীয় মডিফিকেশন করুন, আবার কাজ করুন। এই সার্কেলটা চালাতেই থাকুন। মনে রাখবেন বিজনেস কোন টি২০ ম্যাচ নয়, এটি টেস্ট ম্যাচ। তাই ধীরে সুস্থে খেলুন, তাড়াহুড়া করবেন না…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *