যেভাবে কমিউনিকেশন করলে সবথেকে ভাল রেজাল্ট পাবেন

জীবনে আপনি যেখানেই যান না কেন, পার্সোনাল লাইফ বলেন আর ক্যারিয়ার সব জায়গায় সবথেকে যে জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল সঠিকভাবে কমিউনিকেশন করতে পারাটা। যদি ঠিকঠাক করতে না পারেন তাহলে সেটি আপনার জন্য ক্ষতিকর

অনলাইন মেসেজিং এ আমাদের বেশিরভাগেরই কমিউনিকেশন স্কিলটা তেমন ভাল না। যার ফলে ওনারা প্রচুর সময় নষ্ট করেন, সময়মত রিপ্লাই পান না এবং অনেকসময়ই বিরক্তির উদ্রেক ঘটান

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা অনেকেই মেসেজ পাঠাই এভাবে-  একটা মেসেজ পাঠায় “হ্যালো”, তারপর রিপ্লাই দেওয়ার পর জিজ্ঞেস করে “কেমন আছেন?”,  তারপর মেসেজ করে “একটা কথা বলতাম”। এভাবেই দেখা যায় আসল কথায় আসতে আসতে ঘন্টা পার হয়ে যায়। যারা ব্যাস্ত মানুষ অনেকসময় তারা দেখা যায় এই ধরনের মেসেজ দেখলে তারা স্কিপ করে যান, কোন রিপ্লাই-ই করেন না কারণ সময় নষ্ট। আমি নিজেও এই টাইপের মেসেজ আসলে খুব একটা গুরুত্ব দি না কারণ বিরক্ত লাগে খেঁজুরে আলাপ করতে…

তাই যদি আপনি চমৎকার কমিউনিকেশন করতে চান এবং দ্রুত রিপ্লাই পেতে চান তাহলে আপনার মেসেজ প্যাটার্নটা হওয়া উচিত এমন-

 শুরুতে গ্রিটিংস- হ্যালো, আশাকরি ভাল আছেন

তারপর আপনার পরিচয় দিলেন যদি নতুন কাউকে মেসেজ করেন

তারপর কোন টপিকসে কথা বলতে চাচ্ছেন সেটি নিয়ে জানালেন

কি ধরনের সমস্যা ফেস করছেন সেটি বলবেন,  যদি মাল্টিপল বিষয় নিয়ে কথা বলেন তাহলে সবগুলো বুলেট পয়েন্ট আকারে লিখবেন

তারপর কি ধরনের সমাধান আপনার মাথায় আসছে সেটি নিয়ে আইডিয়া দিলেন

এরপর ওনার থেকে কি ধরনের সাজেশন আশা করছেন সেটি লিখবেন

তারপর উপসহংহারে চলে গেলেন তিনি যেন সময় করে রিপ্লাই করেন এবং সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে৷ “

পুরোটা লিখবেন একবারে একটা মেসেজেই এবং প্রতিটা জিনিস আলাদা আলাদা প্যারা প্যারা করে আমি যেভাবে লিখেছি সেভাবে

এটাতে সুবিধা যেটা হবে, যেহেতু একটা মেসেজেই আপনি সব ইনফরমেশন দিয়ে দিয়েছেন তাই ওনার জন্য জিনিসটা বুঝাটা সহজ হবে, তিনি পুরো সিনারিওটা ক্যাচ করে ভাল একটা সাজেশন দিতে পারবেন।  এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আপনাদের দুইজনেরই প্রচুর সময় বাঁচবে। 

এটাত গেল অনলাইন মেসেজ কমিউনিকেশন, এবার আমরা ত ফোনেও যোগাযোগ করি তখন কিভাবে কি করবেন? 

ধরুন আপনি কয়েকটা বিষয় নিয়ে কারো সাথে কথা বলবেন তখন যেভাবে করা উচিত-

ফোন করে শুরুতেই গ্রিটিং দিয়ে কোন টপিকসে কয়টা বিষয় নিয়ে কথা বলবেন সেটি জানিয়ে জিজ্ঞেস করে নিবেন ওনি ফ্রি আছে কিনা। 

যেমন “সালাম ভাই, কেমন আছেন? কাজে একটা সমস্যা ফেস করছি,

এটা নিয়ে ৩-৪টা বিষয় নিয়ে একটু কথা বলার ছিল, আপনি ফ্রি আছেন কিনা? 

এটাতে সুবিধা যেটা হবে ওনি বুঝতে পারবে এই কলটা কতক্ষণ পর্যন্ত চলতে পারে এবং ওনি অতটুকু সময় ফ্রি আছেন কিনা। যদি ফ্রি থাকেন ত ভাল, আর যদি না থাকেন তাহলে পরবর্তীতে ওনি যখন কল ব্যাক করবেন তখন হাতে ঐ পরিমাণ সময় নিয়েই কল করবেন এবং আপনি কথায় কথায় কোন পয়েন্ট মিস করে গেলেও ওনিই আপনাকে ধরিয়ে দিবে একটা পয়েন্ট মিসিং হয়েছে৷ 

আপনাদের মত এই স্ট্যাইলে কমিউনিকেশন না করার ভুল আমিও করতাম একসময়।  তারপর লাস্ট ২ বছর ধরে নিজে নিজেই এভাবে কমিউনিকেশন করা শুরু করি সবজায়গায় এবং রেজাল্ট পাই চমৎকার। তাই আপনিও যদি এভাবে কমিউনিকেশন না করার ভুল করে থাকেন তাহলে বলবো এখনি নিজেকে চেঞ্জ করে নেন, তারপর দেখবেন রেজাল্টও পাবেন চমৎকার৷ 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *