বর্তমানে বিষ মুক্ত সবজি নিয়ে সবার মধ্যে একটা সচেতনতা তৈরি হচ্ছে, এটার মার্কেট ডিমান্ডও বাড়ছে রেগুলার। কিন্তু নরমাল কৃষি জমিতে সত্যিকার অর্থে বিষমুক্ত সবজি চাষ করা একটা কঠিন কাজ, মাটিটাকেই বিষ মুক্ত করতে বেশ কয়েকবছর লেগে যায়। আরো একটা কঠিন শর্ত থাকে আপনার আশেপাশের জমিগুলোকেও বিষ মুক্ত হতে হবে, আপনি ক্যামিকেল ইউজ করলেন না কিন্তু আশেপাশে সবাই করলো তখন কিন্তু আপনার খুব একটা লাভ হবে না।
এখন এটার চমৎকার একটা বিকল্প হতে পারে শহর অঞ্চলের বাসাবাড়ির ছাদ কৃষি। যেহেতু শহরে কৃষি জমিও নাই, ক্যামিকেলের ইউজও নাই তাই ছাদ কৃষিতে ক্যামিকেলের প্রভাব থাকাও খুবই কম বলে সত্যিকারের নিরাপদ কৃষি এখানে করতে পারবেন।
এটাতে আপনি আরো বড় কিছু সুবিধাও পাবেন। যেমন ধরুন, শহরের বিল্ডিংগুলোতে ছাদের গরমের কারণে টপফ্লোরের বাসা নরমালি কেউ ভাড়া নিতে চায় না বা নিলেও তারা স্বস্তিতে থাকে না। এই কারণে ছাদের গরম কমাতে অনেক বিল্ডিং এই আলাদা ব্যবস্থা নেয় অনেক টাকা খরচ করে।
অথচ আপনি যদি ছাদ কৃষি করতে পারেন তাহলে ছাদে সবসময়ই একটা ছায়া থাকবে বলে টপ ফ্লোরের গরমটা বেশভাল রকমেরই কমে যাবে।
আবার শহরের গরম বেশি অনুভূত হয় কারণ এখানে গাছের সংখ্যা কম। আপনি যদি বেশিরভাগ বাসার ছাদে ছাদ কৃষি করতে পারেন তাহলে নির্দিষ্ট একটা সময় পর দেখা যাবে শহরের তাপমাত্রাও কমে এসেছে অনেকটাই
তবে এই কাজটাতে বেশ ভাল রকমের কিছু চ্যালেন্জ আছে। সবথেকে বড় চ্যালেন্জ হবে বিল্ডিং এর ওয়েট ম্যানেজ করা। ছাদ কৃষিতে বিল্ডিং এর উপর একটা বাড়তি চাপ আসবে মাটি, গাছের ওজন নিয়ে। তাই বিল্ডিং যদি নিয়মমেনে না বানানো হয় এবং গাছের ওয়েট ব্যালেন্স যদি ঠিকঠাক মেইনটেইন করা না যায় তাহলে পুরো বিল্ডিং এর ক্ষতি হতে পারে।
এটার জন্য এই বিজনেস করতে গেলে টিমে একজন সিভিল ইন্জিনিয়ার লাগবেই যিনি এই কাজগুলো হ্যান্ডেল করবেন। কাজ করার আগে এমন বাসাগুলো খুঁজে বের করতে হবে যেহেতু নিয়ম মেনে বানানো হয়েছে
আরেকটা সমস্যা যেটা হবে, ছাদ কৃষিতে যদি ন্যাচারালি চাষ করতে হয় তাহলে কিছু গন্ধ হবে, একটু পোকামাকড়ও হবে। এটার জন্যও বাড়ির মানুষজনকে ম্যানেজ করা, পোকামাকড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই কাজের জন্য টিমে একজন অভিজ্ঞ কৃষকও লাগবে যিনি ফার্মিং এর বিষয়টা দেখবেন
শুরুর দিকের আরেকটা বড় চ্যালেন্জ যেটা আসবে বাড়ির মালিকদের রাজি করানো, এটা আমার মনেহয় সবথেকে কঠিন কাজ। এখানে একটা কাজ করা যেতে পারে যে, পুরো ছাদটা দখল না নিয়ে অর্ধেক ছাদে কৃষি চাষ করা যায় এবং বাকি অর্ধেক সবার হাঁটা চলার জন্য খালি রাখা যায়। এবং বাড়ির মালিক ও বাসিন্দাদের জন্য অফার দেওয়া যে ছাদে যা চাষ হবে তার ৫০% নায্যমূল্যে তাদের মধ্যেই বিক্রি করা হবে।
আমাদের মানুষদের যে স্বভাব তাকে এটা নিশ্চিত ভাবেই হবে যে বাসিন্দারাই সবজি গাছ থেকেই চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এটার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে কৃষি এরিয়াতে বেড়া দিতেই হবে…
খালি পায়ে মাটিতে হাঁটাহাঁটি করা শরীর স্বাস্থ্য, মনের জন্য উপকারি। এটা মানসিক চাপ কমায়, মন শান্ত করে, শারিরীক অনেক উপকারও পাওয়া যায়। ছাদ কৃষিতে একটা অংশে যদি আপনি সবার হাঁটাহাঁটির জন্য মাটির ব্যবস্থা করে দেন তাহলে সেটা বাসিন্দারা আমার বিশ্বাস পছন্দই করবে।
এই আইডিয়াটা আমাকে অনেকদিন ধরেই পেরা দিচ্ছে। কিন্তু এটার জন্য টিম লাগবে, ফান্ড লাগবে, অনেকগুলো কাজ করতে হবে যেটা এই মূহুর্তে আমার জন্য সম্ভব হচ্ছে না। তাই আইডিয়াটা শেয়ার করে রাখলাম। কেউ যদি এটাকে কাজে লাগাতে পারেন ত শুরু করতে পারেন অথবা ভবিষ্যৎতে আমি নিজেও করতে পারি।
—-
কাজি ইরফান
২৯ আগষ্ট ২০২৬

